"মানব জীবনে রঙের প্রভাব "
প্রার্থনা
সর্বে চ সুখিনঃ সন্তু সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রানি পশ্যন্তু মা কশ্চিদ্ দুঃখভাগ্ ভবেদ্।।
গুরু প্রণাম
গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরুদেবো মহেশ্বরঃ।
গুরুরেব পরম ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ।।
গায়ত্রী মন্ত্র
ঔঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎসবিতু বরেন্যং।
ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধীয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ঔঁ।।
মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
ঔঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম।
ঊর্বারুকমিব বন্ধনান মৃত্যো মূক্ষীয় মামৃতাত ।।
অমৃত শ্লোক
১)
অসতো মা সদ্গময়, তমসো মা জ্যোতির্গ
ময়, মৃত্যোর্মা
অমৃতং গময়।।
২)
ঔঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমু
দচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে।।
৩)
ঔঁ সহনাববতু সহনৌভূনক্তু সববীর্য্যং করবাবহৈ।
তেজস্বী নাবধীতমস্তু মা বিদ্বিষাবহৈ।
ঔঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ। প্রচ্ছদ সূচীপত্র
প্রণাম মন্ত্র
নবগ্রহ
নমঃ সূর্য্যায় সোমায় মঙ্গলায় বুধায় চ।
গুরুশুক্র শনিভ্যশ্চ রাহবে কেতবে নমঃ।।
গণেশ
ঔঁ একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং।
বিঘ্ননাশকারং দেবং হেরম্বং প্রনম্যাহং।।
শিব
নমঃ শিবায় শান্তায় কারন ত্রয় হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্তং পরমেশ্বর।।
দুর্গা
সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে ।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোস্তুতে।।
সরস্বতী
সরস্বতী নমস্তুর্ভ্যং বরদে কামরুপিনি।
বিদ্যারম্ভং করিষ্যামি সিদ্ধির্ভবতুমে সদা।।
সূর্্য্য
ঔঁ জবাকুসুম সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতি ম।
রঙের ছোঁয়ায় রঙ্গিন ভাগ্য
সূর্যছাড়া যেমন বিশ্ব চরাচর অচল, তেমনই রঙ ছাড়া
জীবন অসম্ভব। রঙের ছোঁয়ায় জীবনের জলসা ঘর সতত
উজ্জ্বল ও রঙিন। রঙ শুধু জীবনে বৈচিত্র্য আনে না,
জীবনকে বদলায়, ভাগ্যকে বশ মানায়, জীবনে অপার
দীপ্তি দান করে। রঙের পরশে জীবনে ছন্দ,আনন্দ ও
সৌন্দর্যজেগে ওঠে। জীবনকে রূপ, রস ও মাধুর্যে ভরিয়ে
তোলে। রঙ আমাদের মন-মেজাজ-মর্
জি, আবেগ, অনু
ভূতি,
ভাবপ্রবণতা ও ব্যক্তিত্বের বাহ্যিক প্রকাশ বা প্রতিফলন।
জীবনের সর্বস্তরে তাই রঙের উজ্জ্বল উপস্থিতি।
সূর্যই জগত সংসারের আদি উৎস ও উপাস্য। সূর্যই সমস্ত
জগত সংসারের প্রাণশক্তি, তাপ, আলো ও রঙের উৎস।
হিন্দু পু
রাণ বলে, সূর্যদেব সাতটি রথের সওয়ারী। সাতটি
রথই সাতটি রঙের প্রতীক। সূর্যের আলোর আড়ালে
সাতটি রঙ লুকিয়ে থাকে। বিজ্ঞান বলে VIBGYOR,
জ্যোতিষ বলে “ বেনীআসহকলা ” – সাতটি রঙের
প্রথম অক্ষর নিয়েই শব্দটির উদ্ভব। রঙগুলি যথাক্রমে-
বেগুনী, নীল, আকাশী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।
এই সাতটি রঙ আবার মিলেমিশে গাঢ়, ফিকে, হালকা,
ধুসর, উজ্জ্বল ইত্যাদি নানা রঙ বাহার তৈরি করে। গ্রহের
মতো জীবনে রঙের প্রভাবও সমান ভাবে বর্তায়। প্রতিটি
রঙের মৌলিক চরিত্র, ক্রিয়া ও প্রভাব আলাদা। সঠিক
রঙ নির্বাচন করা ও সঠিক রঙ ব্যবহারে সচেতন হওয়া
তাই খু
বই দরকার। সঠিক রঙ ব্যবহার করলে জীবন
কর্মময় ও আনন্দময় হয়ে ওঠে।
রঙগুলো পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অনুসারে পরপর
দুটি ভিন্ন ধারার প্রভাব তৈরিকরে। একটি শুভ ও পরিপূরক,
অন্যটি অশুভ ও বিরোধী। পরিপূরক রঙ জীবনে আকর্ষণ,
সুস্থিতি, সংযম,শৃঙ্খলা, সংহতি ও সদর্থক প্রভাব জাগায়।
অন্যদিকে বিরোধী রঙগুলি জীবনে বিরূপতা, অস্থিরতা,
প্রভাব ব্যক্তি জীবনের মতো সমাজ ও জাতীয় জীবনেও
পড়ে। ব্যক্তি জীবনে বিশেষ কয়েকটি রঙ প্রিয় বা অপ্রিয়
হয়ে ওঠে। সাদা রঙ সবচেয়ে বেশি মানুষের পছন্দ,
কিন্তু ব্যবহারিক অসুবিধার কারণে কম ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে কালো রঙ সবচেয়ে বেশি মানুষের অপছন্দের
কিন্তু ব্যবহারিক সুবিধার কারণে বেশি ব্যবহৃত হয়।
দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জামা-কাপড়, জুতো, মোজা,
রুমাল, তোয়ালে, পরদা, বিছানার চাদরের রঙ, ঘর-বাড়ি,
গাড়ি, আসবাব পত্রের রঙ নির্বাচনে সতর্ক হলে অবাঞ্ছিত
অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়। সমীক্ষায় দেখা গেছে – লাল
রঙের গাড়ি সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও চুরি-ছিন’তাইয়ের
শিকার হয়। উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা সাদা ও উজ্জ্বল রঙ
বেশি ব্যবহার করেন । শীত প্রধান অঞ্চলের মানুষ গাঢ়
ও উজ্জ্বল রং বেশি ব্যবহার করেন । হলুদ ও লাল রঙ
ইন্টার্ভিউ, সাক্ষাৎকার, মধ্যস্থতা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়
বেশি সাফল্য দেয় । সবুজ রঙ স্বস্তি, শান্তি, আরামদায়ক
ও হজমে সহায়ক। ফলে চিকিৎসা জগতে সবুজ রঙ
বহুল ব্যবহৃত এবং ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা কর্মীরা
সাদার সঙ্গে সবুজ রঙ ব্যবহার করেন। অন্যদিকে কালো
রঙ – হতাশা, দুঃখ, বিরূপতা, প্রত্যাখ্যান বাড়ায়।
সামাজিক জীবনেও রঙের প্রভাব আশ্চর্যজনক। যে ক�োনও
সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, স্কুল, কলেজ, ইত্যাদির ড্রেস
ক�োড, ইউনিফর্ম, জার্সি ও ফ্ল্যাগ প্রভৃতির রঙ নির্বাচনে
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতার মানসিকতা, আদর্শ ও বিশ্বাস প্রভাব
ফেলে। সুফি, অঘোর ও নিরীশ্বরবাদীরা কালো রঙ
পছন্দ করেন। জড়বাদীরা গাঢ় লাল রঙ পছন্দ করেন।
নিরাকার ঈশ্বরভক্তরা সাদা, আকাশী রঙ পছন্দ করেন।
বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন রাশির প্রভাবাধীন হওয়ায় ফলে
জাতীয় পতাকার রঙে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায় । সংশ্লিষ্ট
দেশের বৃহত্তর জনগণের মানসিকতা জাতীয় পতাকার
রঙে প্রতিফলিত হয়। ভারত আবহমান কাল ধরে শান্তি,
ফলে ভারতের তেরঙ্গা জাতীয় পতাকার তিনটি রঙ নিয়তি
নির্দিষ্ট। সাদা – শান্তি ও সহাবস্থান, সবুজ – সমৃদ্ধি ও
প্রগতি, গৈরিক – ত্যাগ ও অহিংসার প্রতীক।
ক�োন রঙের প্রভাব কেমন
সাদা শান্তি, সারল্য, পবিত্রতা, সংহতি, উর্বরতা, মু
ক্ত
ভাবধারা
কালো কঠোরতা, শোক-তাপ, দুঃখ ও বিষাদ, হতাশা,
পরাধীনতা ও অশুভ শক্তি
লাল প্রাণ –প্রাচুর্য,শক্তি-সামর্থ্য, স্ফূর্তি , তীব্র গতি,
সুরক্ষা, উগ্র মেজাজ, কর্তৃত্ব, জৈবিক চাহিদা,
নীল শীতলতা, মানসিক চাপ,আনুগত্য,
উৎপাদনশীলতা, মধ্যপন্থা ও শান্তি, আনন্দময়
ও শান্তিময় জীবন,
হলুদ উজ্জ্বলতা, বুদ্ধিদীপ্ত, তৃপ্তি , ক্ষমতার প্রকাশ,
স্বচ্ছতা, সৃজন শীলতা, একাগ্রতা,
সবুজ প্রশান্তি, আরাম, পরিতৃপ্তি , সমৃদ্ধি , রোগ-
আরোগ্য, উর্বরতা, সহযোগিতা ও সহানু
ভূতি
কমলা ত্যাগ, অহিংসা, সংযত জীবন, দৃঢ় ইচ্ছা, বিস্তার
ও বর্ধনশীলতা, ঈশ্বরপ্রেমী,
বেগুনী শক্তি-সামর্থ্য, বলপ্রয়োগ, স্পষ্টতা, স্বমতে
আকাশী উদারতা, মানবিকতা, চিন্তাশীলতা, মনের
গভীরতা, সারল্য, সামাজিকতা, ঈশ্বর চেতনা,
জানার আগ্রহ,
গোলাপি হাল্কা মন, কল্পনা বিলাসী , প্রেম-প্রীতি, প্রণয়,
আনন্দ-উচ্ছ্বাস, রোমান্টিকতা, পরিবর্তনশীলতা,
স্পর্শকাতর মন
রাশি অনুসারে ক�োন ক�োন রঙ শুভ
মেষ লাল, সাদা, হলুদ,
বৃষ নীল, সবুজ, আকাশী ,
মিথুন সবুজ, নীলাভ, আকাশী ,
কর্কট সাদা, লাল, হলুদ,
সিংহ লাল, সাদা, হলুদ, কমলা,
কন্যা নীল, সবুজ, আকাশী ও বেগুনী,
তুলা বেগুনী, সবুজ, সাদা, নীল,
বৃশ্চিক লাল, সাদা, হলুদ, কমলা,
ধনু হলুদ, সবুজ, লাল, সাদা,
মকর নীল, বেগুনী, সাদা, সবুজ,
কুম্ভ ফিরোজা, আকাশী, সবুজ,
মীন হলুদ, সাদা, লাল
মানব জীবনে রঙের ছোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মত সহজাত
এবং স্বতঃস্ফূর্ত । স্থান-কাল-পাত্র বিচার করে নিজ নিজ
রাশি অনুসারে সঠিক ও শুভ রঙ ব্যবহার করুন। ফোন নম্বর 7001310672 jyotishacharyaanimesh.blogspot.com
Comments
Post a Comment